আমি ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করিয়া মেঝেতে বসিলাম। ঠাকুর কথা বলিতে বলিতে ভোগ গ্রহণে উদ্যত হইলেন। হঠাৎ ঠাকুর গলার স্বর সপ্তমে চড়াইয়া বলিয়া উঠিলেন কে, কে ওখানে, বাহিরে কেন দাঁড়াইয়া আছেন, উদ্দেশ্য কি?" আমি অতি তৎপর হইয়া ঘরের দরজা খুলিয়া বাহিরে আসিয়া কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না।
ঠাকুরঘরের এদিক ওদিক চতুর্দিকে ঘুরিয়া কাহাকেও দেখিতে না পাইয়া বাড়ীর অন্দর মহলে দৃষ্টিপাত করিতেই লক্ষ্য করিলাম, একখানা কাপড় হঠাৎ বাড়ীর ভিতরে অদৃশ্য হইয়া গেল। আমি ঠাকুরঘরের বারান্দায় দাঁড়াইয়া অনুধাবন করিতে চেষ্টা করিলাম, কে ঠাকুরের ভোগের সময় আসিয়া ঠাকুরঘরে উঁকি দিয়াছিল। বাড়ীর সকলের ব্যবহৃত কাপড় আমার চেনা আছে। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করিয়া আমি বুঝিতে পারিলাম, আগন্তুক আর কেহ নহেন, আমার মাতৃতুল্য বড়বৌদি, রায় সাহেব শ্রী শচীন্দ্র কুমার মালাকারের পত্নী। আমি ছুটিয়া ভিতর বাড়ীতে যাইয়া বড়বৌদির সামনে দাঁড়াইয়া বলিলাম, "বৌদি আপনি?” বৌদি ভয়ে থর থর করিয়া কাঁপিতে লাগিলেন, কোন কথা বলিতে পারিলেন না। ঠাকুর কিভাবে ভোগ গ্রহণ করেন, তাহা দেখিবার নিমিত্ত কৌতুহল বশতঃ ঠাকুরঘরের বেড়ার ছিদ্রপথে।
রামভাই স্মরণে

0 Comments