রাম ঠাকুরের কথা
ইহার পরের দিন সন্ধ্যার প্রাক্কালে বাহির হইয়া যাইবার সময় ঠাকুর আমাকে সঙ্গে লইয়া গেলেন। দুই চারিটি গলি ঘুরিয়া আমরা এক কালীবাড়ীতে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। ঠাকুর আমাকে সেখানে অপেক্ষা করিতে বলিয়া আবার একাকী বাহির হইয়া গেলেন। একজন সাধু গোছের ভদ্রলোক হারমোনিয়াম বাজাইয়া শ্যামা সঙ্গীত গাহিতেছিলেন। তিনি একটি একটি করিয়া ৪টি গান গাহিলেন, পরে আরতি আরম্ভ হইল। আরতির শেষে দুইখানা লুচি এবং কয়েকটি ক্ষীরের নাড়ু প্রসাদ পাইয়াছিলাম মনে আছে। কিন্তু আমি এ সকল কিছুই ভাল করিয়া উপভোগ করিতে পারিতেছিলাম না, কারণ আমার মন ঠাকুরের দিকেই পড়িয়া ছিল। আরও কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করিবার পর তিনি ফিরিয়া আসিলেন এবং আমাকে লইয়া বাহির হইয়া গেলেন। এই কালীবাড়ী পরে আমি অনেক অনুসন্ধান করিয়াও বাহির করিতে পারি নাই। ঠাকুর আমাকে গলিঘুঁজির মধ্য দিয়া তথায় লইয়া গিয়াছিলেন এবং সেন্ট্রাল এভেনিউ রাস্তা বাহির হওয়ার দরুণ ঐ অঞ্চলে ভাঙ্গাচুরাও অনেক হইয়াছে, বোধ হয় সেই জন্যই আমার চেষ্টা সফল হয় নাই। আমার মনে হয় যে সেন্ট্রাল এভেনিউ ও গ্রে স্ট্রীটের মোড়ের কিঞ্চিৎ উত্তরে রাস্তার উপর যে কালীবাড়ীটি বর্তমানে আছে, ইহাই সেই কালীবাড়ী।
শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------

0 Comments