সংসার মায়াময়: গঞ্জনা সহ্যই প্রকৃত তপস্যা | বেদবানী পত্রাংশ ১০২ | শ্রী শ্রী রামঠাকুর

বেদবানীর প্রথম খণ্ডের পত্রাংশ নং (১০২)-এ শ্রী শ্রী রামঠাকুর অত্যন্ত গভীরভাবে সংসার, কর্মফল এবং তপস্যার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। এই শিক্ষায় তিনি বলেছেন— সংসার মায়াময়, কিন্তু এই সংসারের সকল দুঃখ, গঞ্জনা ও সম্পর্কই পূর্বজন্মের ঋণগত কর্মফল। এগুলি এড়িয়ে চললে মুক্তি পাওয়া যায় না, বরং আরও বন্ধন সৃষ্টি হয়। 👉 প্রকৃত সাধনা কী? 👉 কেন সংসারের দুঃখ সহ্য করাই তপস্যা? 👉 কিভাবে কর্ম করে মুক্তির পথে এগোনো যায়? এই ভিডিওতে আপনি পাবেন— ✔ সহজ ভাষায় বেদবানীর ব্যাখ্যা ✔ জীবনের বাস্তব প্রয়োগ ✔ ভজন ও কর্মের সমন্বয়ের পথ 🌼 এই শিক্ষা আমাদের শেখায়— ফলাফলের প্রতি আসক্তি ছাড়াই কর্তব্য পালন করাই সত্য সাধনা। 🙏 জয় রাম ঠাকুর 🙏 বেদবানী পত্রাংশ ১০২ - শ্রী শ্রী রামঠাকুর

বেদবানী প্রথম খন্ড

পত্রাংশ নং - ১০২

শ্রী শ্রী রামঠাকুর

সংসার মায়াময় — গঞ্জনা সহ্য করাই প্রকৃত তপস্যা।

সংসার মায়াময়, সংসারের সকল রকম গঞ্জনা সহ্য করিয়া ভাগ্যানুসারে আয় ব্যয় স্থিতি করিয়া যায়, ইহাই পুরুষকার। দুঃখ হইবে বলিয়াই যে কর্ম্ম ত্যাগ করিবে, সুখ হইবে বলিয়াই যে কর্ম্ম করিবে—কি করিবে না, ইহা নয়।

পিতা মাতা, ভাই ভগ্নী, খুড়া জ্যেঠা, মাসী পিসি, বাড়ীঘর, গ্রামবাসী, দেশবাসী, আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব, শত্রু মিত্র, সৎ অসৎ সঙ্গ—সকল ঋণগত কর্ম্মফল। ইহা সকলি ভাগ্যক্রমে প্রাপ্ত হয়। ইহাদের মধ্যে কাহার কোন দোষ নাই।

ভাগ্যবশতঃ ফলাফল ভাল মন্দ ব্যবস্থা যা থাকে, ইহাই ঋণবদ্ধ। এই সকলের গঞ্জনা যথাশক্তি সহ্য করিবে। যাহার যে প্রাপ্ত অংশ আছে তাহারা যে যে ভাবে আদায় করিতে পারে, সেই আদায়ের চেষ্টা করে।

ইহাদিগকে ফাঁকি দিয়া বনে গিয়া কি ফল হইবে, কিংবা দেহ ছাড়িলেই বা কি হইবে? এদের ঋণ তো শোধ হইবেই না, দফে দফে চিরজন্মই ভোগ করিতে হইবে।

এই গঞ্জনা সহ্য করিতে পারিবে না ভয়ে যদি জপ, তপস্যা, যোগ, যাগ প্রভৃতি করে— তাহাতে ঋণ মুক্ত হয় না, বরং কর্ম্ম বৃদ্ধি হইয়া বন্ধনই হয়।

অতএব ভাগ্যচক্রের অধীন হইয়া দিবানিশি প্রয়োজনীয় সংসারের আয় ব্যয় যথাসাধ্য ভাবে করিতে চেষ্টা করিতে, ত্রুটি না করিয়া, ফল অফলে লক্ষ্য না করিয়া কর্ম্ম করিতে থাকিবে।

এর মধ্যে যে কোন সময় ইষ্টদেবতার মন্ত্রাদি নাম যথাসাধ্য করিবে— ইহাতেই ভজন সাধন সিদ্ধ হইয়া নিত্য মুক্ত হয়।

এই যে বেগ সহ্য করিতে চেষ্টা করা—ইহাকেই নিত্য তপস্যা বলে। এই ভাবে নিরপেক্ষতা করিয়া দেহ ত্যাগ করে—ইহাই সাধু, সন্ন্যাসী, ত্যাগী বলিয়া শাস্ত্রকারেরা বলিয়াছেন।

সর্ব্বশক্তিমান ভগবান সকলই সহ্য করিতে পারেন বলিয়া এবং কাহাকেও কোনরূপ উপেক্ষা করেন না, বিরক্তও হন না বলিয়া লোকে ভগবান বলে। তাঁহার ভক্তও তাঁহার কাছ হইতে শক্তি আহরণ এই ভাবেই করে।

পক্ষে গেলে ভূত দ্বন্দ্ব মায়ার বিপর্যয়ের তরঙ্গে পড়িয়া লাঞ্ছনা পাইয়া, ভাগ্যক্রমে সুখ দুঃখাদি শুভ অশুভ ভোগ করে—ভগবৎ প্রাপ্ত হয় না।

Post a Comment

0 Comments