সর্ব্বদাই নাম নিয়া পড়িয়া থাকিবেন, প্রারব্ধভোগ উদয় হইয়া চলিয়া যাইবে, থাকিবে না।পরম ব্রহ্ম একমাত্র নাম সংকীর্ত্তনই হয়।

-শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ১ম খন্ড(৩৭৫)
কলিযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর কোনো জটিল শাস্ত্রীয় তত্ত্বে না গিয়ে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সহজ আচরণের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ দেখিয়েছেন।🌷
"নাম করতে করতে সব হয়। সকাল-সন্ধ্যা তাঁর নাম নিয়ে বসে থাকতে হয়, কাজ হোক আর না হোক। নাম করতে করতে একদিন ঠিকই নামের নেশা ধরবে।"
বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের এই উপদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো নিয়মানুবর্তিতা এবং ধৈর্য। এর গভীরে কয়েকটি বিশেষ শিক্ষা রয়েছে:
অভ্যাস গঠন: সন্ধ্যাবেলা হলো দিনের এক সন্ধিক্ষণ। ঠাকুর বলতেন, মন তখন চঞ্চল থাকে। তাই এই সময়ে জোর করে হলেও নামের (জপ) আসনে বসতে হয়। 'কাজ হওয়া' বলতে তিনি বোঝাতেন মনের একাগ্রতা। শুরুতে মন স্থির না হলেও হাল ছাড়া যাবে না।
নিষ্কাম ভক্তি: অনেক সময় আমরা ভাবি যে নাম করতে বসে মন বসছে না, তাই নাম করে লাভ নেই। কিন্তু ঠাকুর শেখাচ্ছেন যে ফল বা একাগ্রতার আশা না করে কেবল কর্তব্যের খাতিরে সকাল-সন্ধ্যা তাঁর স্মরণে বসা উচিত।
নামের শক্তি: তিনি বিশ্বাস করতেন নামের নিজস্ব এক অমোঘ শক্তি আছে। বারবার নাম করতে করতে একদিন মনের সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং ভগবানের নামের প্রতি এক স্বাভাবিক টান বা 'নেশা' তৈরি হয়। তখন আর জোর করে বসতে হয় না, নামই মানুষকে টেনে নেয়।
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের মতে, সন্ধ্যার সময়টুকু শান্ত হয়ে বসে থাকা এবং মনের সব অস্থিরতা তাঁর চরণে সঁপে দেওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা। তিনি বলতেন, "নামই সব, নামই ভগবান"। তাই আপনি যদি এই সময়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট শান্ত হয়ে বসে তাঁর নাম স্মরণ করেন, তবে তা আপনার মানসিক শান্তির জন্য যথেষ্ট।
🙏🌹জয় রাম জয় গোবিন্দ 🌹🙏

মোহান্ত শ্রীমৎ হরিপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩০-১৯৩৫)
পাহাড়তলিতে শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম স্থাপিত হওয়ার আগেই শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীমৎ হরিপদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম মোহান্ত মনোনীত করেছিলেন । শ্রীমৎ বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ-বঙ্গে ২৪ পরগণা জেলার (বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগণা) অন্তর্ভুক্ত হালিশহরে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭২ সালে। কর্মজীবনে তিনি অসম প্রদেশের লিডু শহরে বসবাস করেছেন এবং সেখানেই শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে দীক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল সঙ্গীতে এবং নিজেও ছিলেন একজন দক্ষ সঙ্গীতশিল্পী। প্রিয় পত্নীর মৃত্যুর পর পরই তিনি প্রবেশ করেন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের এক পরিবর্তিত জীবনে; চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে সদস্য হিসাবে যোগ দান করেন অসমের থিওসফিকাল সোসাইটিতে। তিনি মোহান্ত নিযুক্ত হন ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (জুলাই ২৬, ১৯৩০) যেদিন চট্টগ্রাম পাহাড়তলির শ্রীশ্রীকৈবল্যধামের উদ্বোধন হয়েছিল। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি কৈবল্যস্তোত্রম এবং আরও বহু ভক্তিমুলক গান তিনি রচনা করেছিলেন। ঠাকুর তাঁকে তাঁর ভক্তদের দীক্ষাদান করার পূর্ণ দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সবিনয়ে তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ১৩৪১ বঙ্গাব্দের (১৯৩৫) চৈত্র মাসে শুভ দোল পূর্ণিমার দিন শ্রীমৎ বন্দ্যোপাধ্যায় দোল উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে ফেণীতে গিয়েছিলেন; ঠাকুরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সেদিনই শ্রীমৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ইহলোক ত্যাগ করেন। ফেণীর দাদপুর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। ঠাকুর সেখানে ঘোষণা করেন যে, সেদিন থেকেই শ্রীশ্রীকৈবল্যধামের মোহান্ত হবেন শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। শ্রীমৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে পাহাড়তলির শ্রীশ্রীকৈবল্যধামে নির্মাণ করা হয় হরগৌরী মন্দির।

মোহান্ত শ্রীমৎ হরিপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩০-১৯৩৫)


স্বামী সেবা ফেলিয়া উৎসবে উৎসবে
ঘুরিলে কিছুই হইব না ।
যান গা , স্বামী সেবায় ডুবিয়া থাকেন ।"
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর।

একদিন চৌমুহনীতে শ্রীশ্রী ঠাকুরের বসিবার খাটের ওপর
সামনের পা দুখানা রাখিয়া তথাকার কুকুরটী ঘেউ ঘেউ
করিতে লাগিল ।
ঠাকুর বলিলেন ,
“ আপনারা চেষ্টা কৈরা তান গলাতে সাজনার ছোবা আটক
হইয়া বড় কষ্ট পাইতেছেন তা খুল্যা দেন ।
কুমিল্লার এক ভদ্রমহিলা পুত্রকন্যাহীনা ।
যেখানে উৎসব হয় সেখানেই তিনি যান ।
এমন কি শহরের বাহিরে তাঁহাকে আহ্বান করিলেও তিনি
তথায় যান ।
আজ তিনি মেহারের উৎসবে শ্রীশ্রী ঠাকুরের সেবার কার্য্য সম্পাদনান্তে ফেনীতে যামিনীসাহার বাড়ীরকাজ সমাপ্ত করিয়া চৌমুহনী যাইয়া শ্রীশ্রী ঠাকুরের শ্রীপাদপদ্মে প্রণাম করার
সঙ্গে সঙ্গে শ্রীশ্রী ঠাকুর যেন সর্পদর্শন করিলেন এবং কর্কশস্বরে বলিতে লাগিলেন ,
“ এ আপনে যান্ , যান , বাহির হইয়া যান ,
বাহির হইয়া যান ।”-
এভাবে ৩/৪ বার বলিয়া শেষে বলিলেন ,
“ আমিই যাইগা ।”
ইহাতে উপেনদা আসিয়া বলিলেন ,
“ দিদি ঠাকুর চৈলা যায়গা আসেন , আসেন ,”
বলিয়া তাঁহাকে ধরিয়া ঘরের বাহিরে আনিয়া রাখিলেন ।
শ্রীযুক্তা দিদি , সেই সকাল ৯টা হইতে বিকাল তিনটা পর্য্যন্ত
ঐ বাহিরে দাঁড়াইয়া ,
বসিয়া চোখের জলে কাটাইলে ,
ঠাকুর তিনটার সময় বলিলেন ,
“ তাঁনরে বাইর কৈরা দিলেন ,
তাঁনরে লইয়া আহেন ।”
তাঁহাকে ধরিয়া আনা হইলে ঠাকুর তাঁহাকে বলিলেন ,
“ স্বামী সেবা ফেলিয়া উৎসবে উৎসবে ঘুরিলে কিছু হইব না ।
যান গা এই গাড়ীতে কুমিল্লা যান গা ,
স্বামী সেবায় ডুবিয়া থাকেন। ”
জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
সংগ্রাহক,
সরোজ মজুমদার ।
সোনার ঠাকুরের সোনার পরশ ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৭ হইতে ।



চৈত্র পূর্ণিমার দিন
একদিন এক ভক্ত খুব দুঃখী মন নিয়ে রাম ঠাকুরের কাছে এলেন।
তিনি বললেন,
“ঠাকুর, আমার জীবনে শুধু কষ্ট আর সমস্যা। আমি শান্তি পাই না।”
রাম ঠাকুর শান্তভাবে তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
“তুমি কি কখনো সত্যি মন থেকে ঈশ্বরকে ডাকো?”
ভক্তটি একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
“না ঠাকুর, প্রয়োজন পড়লেই শুধু নাম করি…”
তখন রাম ঠাকুর বললেন—
“ঈশ্বরকে যদি নিজের আপনজন মনে করে ডাকো,
তাহলে দুঃখ তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।”
এই কথা শুনে ভক্তের চোখে জল এসে গেল।
সে বুঝতে পারল—সমস্যা নয়, তার ভক্তির অভাবই আসল কষ্টের কারণ।
সেদিন থেকে সে নিয়ম করে নাম জপ করতে শুরু করল।
ধীরে ধীরে তার মন শান্ত হয়ে গেল, আর জীবনেও আলো ফিরে এল।

জয় রাম জয় গুরু 🙏
ঘুমাইলে কেহই থাকে না, কৃর্ত্তৃত্বও থাকে না। জাগলেই কর্ত্তা উপাধি হয় এবং বিভিন্ন অংশানুঅংশে পতিত হইয়া লোক সকল ভ্রমজালে ঘুরিয়া বেড়ায়।
সত্য=অখন্ড, অয়ন=আশ্রয়, দুই মিলকে সত্যনারায়ণ বলে । নারায়ণঃ পরোবেদো ইত্যাদিকেই সত্য জানিবেন। (বেদবাণী- ১/৩৩৫ )


Post a Comment

0 Comments