সংসার মায়াময়। বাজে চিন্তা করিয়া সময় কাটায়, তাহাই বন্ধন। নিরপেক্ষতার সহচর হইলে শোক দুঃখ প্রারন্ধের দন্ডাদি ও ভোগের যন্ত্রণা হইতে নিষ্কৃতি পায়। জানিতে পারিবেন।
শ্রী শ্রী রামঠাকুর
বেদবাণী ১/(১৭৩)
🌹 রাম ঠাকুরের কথা 🌹
সেবাধর্ম ও ভক্তির শিক্ষা
আরও মনে পড়িতেছে যে ঠাকুর সেবাধর্ম সম্বন্ধেও কিছু আলোচনা করিয়াছিলেন। এখানেও স্মরণ রাখিতে হইবে যে অনন্য ও নিরপেক্ষ না হইলে প্রকৃত সেবাধিকারী হওয়া যায় না।
নারদ ও ভক্তির পরীক্ষা
এ সম্বন্ধে ঠাকুর একটি গল্প বলিতেন। কৃষ্ণভক্ত নারদ বীণা বাজাইয়া অহর্নিশি হরিগুণ গান করিয়া মহানন্দে কাল যাপন করেন, তথাপি তাঁহার মনে একটি ক্ষোভ ছিল। তিনি লক্ষ্য করিতেন যে প্রভুর নিকট ব্রজগোপীদের যে আদর, তাহা তিনি পান না।
কখনো কখনো তাঁহার মনে হইত — প্রভুর মধ্যে পক্ষপাতিত্ব আছে। এই ভাবনা ভক্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শ্রীকৃষ্ণের লীলা ও অসুখ
একদিন নারদ মথুরায় আসিয়া শুনিলেন — শ্রীকৃষ্ণ শীরঃপীড়ায় কষ্ট পাইতেছেন। অনেক অনুনয়ের পর তিনি প্রভুর দর্শন পাইলেন এবং দেখিলেন, তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করিতেছেন।
নারদ জিজ্ঞাসা করিলেন — “এই ব্যাধির প্রতিকার কি?” শ্রীকৃষ্ণ বলিলেন — “কোন ভক্ত যদি তাহার পায়ের ধূলা আমার মাথায় দেয়, তাহা হইলেই আমি সুস্থ হইব।”
ভক্তদের অস্বীকৃতি
নারদ এই কথা শুনিয়া বিস্মিত হইলেন। তিনি নিজে দিতে পারিলেন না এবং অন্যদের নিকট গেলেন। ব্রহ্মা, মহাদেব, দেবতা—কেউই এই ধূলা দিতে রাজি হইলেন না। সকলেই বলিলেন — “প্রভুকে পায়ের ধূলা দিলে আমরা নরকে যাইব।”
ব্রজগোপীদের অনন্য প্রেম
অবশেষে নারদের মনে পড়িল ব্রজগোপীদের কথা। তিনি বৃন্দাবনে গেলেন। গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের অসুখের কথা শুনিয়া অত্যন্ত ব্যথিত হইলেন।
যখন নারদ বলিলেন যে পায়ের ধূলা প্রয়োজন, তখনই তাঁহারা বিনা দ্বিধায় নিজেদের পা বাড়াইয়া দিলেন।
নিরপেক্ষ প্রেমের মহিমা
নারদ বিস্ময়ে হতবাক্ হইলেন। এই প্রেমে কোন স্বার্থ নাই, কোন ভয় নাই। নিজের নরকবাসের ভয়কেও তাঁহারা গুরুত্ব দিলেন না।
তখন নারদের ভুল ভাঙিল। তিনি বুঝিলেন — অন্য সকলের ভক্তি আত্মপ্রীতির সাথে মিশ্রিত, কিন্তু ব্রজগোপীদের প্রেম সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ও নিরপেক্ষ।
উপসংহার
প্রকৃত ভক্তি সেই, যেখানে নিজের লাভ-ক্ষতির চিন্তা নাই—শুধু প্রভুর প্রতি অনন্য প্রেম।

0 Comments