একদিন পূর্ণবাবু,অক্ষয়বাবু,কর্ত্তা (ঁকুঞ্জলাল মজুমদার) আরও দু'তিনজন আশ্রিতের সামনে তিনি বললেন যে,সত্যনারায়ণের আসন প্রতিষ্ঠা হবে।তার জন্য একজন ব্রাহ্মণ শ্রোতা চাই।তিনি নিয়মিত একমাস শুনবেন, তাকে রোজ সন্ধ্যা পাঁচটায় উপস্থিত হতে হবে।এ কথার পরই ঠাকুর ওদের বললেন, কে শুনবে তার নাম স্থির করতে।পূর্ণ গাঙ্গুলী মশাই ব্রাহ্মণ, কাজ থেকে কিছুদিন আগেই অবসর গ্রহণ করেছেন। একমাস ধরে রোজ বিকেল পাঁচটায় উপস্থিত হওয়া তার পক্ষেই সুবিধে।এই ভেবে সকলেই পূর্ণবাবুর নামই করলো। ঠাকুরও তাতে সম্মতি দিলেন। তখন ঠাকুর পূর্ণবাবুকে বললেন, যে তাকে রোজ নিয়মিত পাঁচালী শুনতে হবে।কোনও ক্রমে একদিনও বাদ হবে না।পূর্ণবাবু রোজই সন্ধ্যায় আসতেন,একটা জলচৌকির উপর সিন্নি মেখে একটা বাটিতে করে রাখা থাকতো,ঠাকুর নিজে পাঠ করতেন। আর সকলেই চারিদিকে জোড় হাত করে বসে থাকতো, শেষ হলে ঠাকুরকে সিন্নি দর্শন করিয়ে নিয়ে সকলে প্রসাদ পেতো।সময়ানুবর্তিতা তাঁর একটা বৈশিষ্ট্য ছিল, একটা ট্যাঁকঘড়ি তাঁর সঙ্গেই থাকতো, আর কিছুক্ষণ পর পরই তিনি ঘড়িটি দেখতেন। কোথাও যাওয়া থাকলে সেখানে কাঁটায় কাঁটায় উপস্থিত হতেন,দেরী হতে কেউই তাঁকে দেখে নি।একদিন ঘটনাক্রমে পূর্ণবাবুর দেরী হলো, ঠাকুর ঘড়ি হাতে বসেছিলেন, সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণবাবু না আসতেই তিনি পাঁচালী পাঠ আরম্ভ করলেন। পূর্ণবাবু এলেন মিনিট পাঁচেক পর।আমাদের হিসেবে সেটা দেরী নয়।পাঠ শেষ করে ঠাকুর পূর্ণবাবুকে যৎপরোনাস্তি ভৎর্সনা করলেন। উপস্থিত অক্ষয়বাবু, কর্ত্তা (ঁকুঞ্জলাল মজুমদার) এবং অন্যান্য সবাইকে বললেন, "কথার ঠিক নাই,এমন লোক কেন ঠিক করলেন "।পরে একদিন তিনি কর্ত্তাকে বলেছিলেন, "দেখেন না পূর্ণবাবুর কেমন আইসা বইসা থাকেন।পূর্ণবাবুর আর বেশীদিন নাই।" পূর্ণবাবুর প্রশংসা করলেন।আমাদের মনে হলো হয়তো বা এরই জন্য মুক্তির আগে নির্ম্মল করার জন্যই তাঁকেই প্রধান শ্রোতা করলেন।এর কিছুদিন পর পূর্ণবাবু মুক্তি পেলেন।

0 Comments