অমাবস্যার রাত্তির দুটোয় কাক কোথা থেকে এলো এবং সেই কাকও বাড়ির আর জায়গা ছেড়ে শুধুমাত্র শ্যামা মার কাছেই কেন এলো।আমরা না বুঝে তাকে তাড়িয়ে দিলাম।কি অর্থ জানা নেই, শুধু আন্দাজ করা যায়।

আমাদের বাড়িতে সত্যনারায়ণের আবির্ভাব হলো ১৪ই আশ্বিন।চার পাঁচ দিন পর ঠাকুর নিজেই বললেন যে শরীরটা ভালো লাগছে না, তাই একটু ঘুরে আসবেন।কিছুদিন পরেই তিনি দেওঘরে চলে গেলেন,তারপরেই এক আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটল।

একদিন দুপুরে আমার জা আর আমি দুজনেই স্বপ্নে দেখলাম বাড়িতে কালী পূজো।এর দু'একদিন পরেই দেওঘর থেকে ঠাকুরের চিঠি এলো।ঠাকুর কর্ত্তাকে (ঁকুঞ্জবাবুকে) লিখলেন যে কালী পূজো করলে আমাদের মঙ্গল হবে,তাই আমাদের কালী পূজো করতে বললেন।

ঠাকুরের চিঠি পাওয়ার পর কালী পূজো করা স্থির হ'ল।প্রতিমার অর্ডার দেওয়া হলো।এর দু'একদিন পরেই আবার ঠাকুরের চিঠি এলো, তিনি লিখেছেন, গৃহস্থের ঘরে কালীরুপে না হয়ে শ্যামা রুপে পূজিত হওয়াই মঙ্গল।

পূজো তখনো বাকী,শ্যামা মূর্ত্তি প্রস্তুত হ'ল।বছর ছয় পূজো নিয়মিত চললো,সপ্তম বছরে এক আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটল।

রাত তখন দুটো,শ্যামা পূজো চলছে,একটা বিরাট কাক এসে বারান্দায় খুব পাখা ঝট্ পট্ করে বসলো।বারান্দা থেকে কাকটা সোজা পূজোর ঘরে শ্যামা মূর্ত্তির কাঁধের ওপর বসলো।তারপর কাকটা আবার উড়ে বাইরে চলে গেল। 

ঘটনাটি আশ্চর্য্য।রাত দুটোয় কাক কোথা থেকে এলো,আর এসে দেবীর গায়ের ওপর বসলো। সবাই ব্যাপারটা অত্যন্ত অশুভ মনে করলো।

তার পরের বছর, পূজোর কিছু আগে থেকেই আমিও অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।পূজোর কিছুদিন আগের থেকেই হাসপাতালে থাকতে হলো।ঘটনাচক্রে সে বছর আর শ্যামা পূজো হলো না।তার পরের বছর থেকে পূজো বন্ধ হলো।

ঠাকুর তার কয়েক বছর আগেই দেহ রক্ষা করেছেন।তাই ঘটনার কোনো তাৎপর্য্য আছে কিনা নির্ধারণ করা সম্ভব হলো না।এখন মনে হয় অনেক সময়ই তাঁর কাছে দেহী বিদেহী অদৃশ্যভাবে বা ভিন্নরুপে এসেছেন।এবারও হয়তো এরকমই কেউ কাকের মূর্ত্তি পরিগ্রহ করে এসেছিলেন।

অমাবস্যার রাত্তির দুটোয় কাক কোথা থেকে এলো এবং সেই কাকও বাড়ির আর জায়গা ছেড়ে শুধুমাত্র শ্যামা মার কাছেই কেন এলো।আমরা না বুঝে তাকে তাড়িয়ে দিলাম।কি অর্থ জানা নেই, শুধু আন্দাজ করা যায়। 

এরকম অনেক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেছে।আজ অনেক-কাল পরে মনে হয় আপাতঃ দৃষ্টিতে যা অশুভ মনে হয়েছিল,তাই হয়তো পরম শুভ।

   ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র
—শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার

Post a Comment

0 Comments