ধৈর্য্যই ধর্ম্ম, ধৈর্য্যই ভগবান
🌼 মূল বাণী
আপনি বাজে চিন্তার আবর্ত্তন হইতে ধৈর্য্য ধরিয়া সত্যনারায়ণের নাম সর্ব্বদা করিবেন। এইরুপ অভ্যাস করিতে করিতে স্থির চিন্তা আসিয়া আপনাকে পরম শান্তি দিবেন। ভগবান একমাত্র ধৈর্য্য হইতেই প্রকাশ হন। ধৈর্য্যই ধর্ম্ম, ধৈর্য্যই ভগবান, দ্বন্দ্বে স্থির থাকাই আনন্দ। অধৈর্য্য হইলে লাভ দ্বারা যে সকল সুখ পাওয়া যায় তাহা ক্ষণস্থায়ী মাত্র—উদয় এবং অস্তশীল বলিয়া জানিবেন। প্রারব্ধ (ভাগ্যই) সেই সমস্ত বিষয় ভেদজ্ঞানের আবরণে টানিয়া নিয়া যায়, অতএব সর্ব্বদা প্রারব্ধ বেগ সহিষ্ণুতার দ্বারা পবিত্র করিয়া পবিত্র হইতে চেষ্টা করিবেন। এই প্রকার মনের, বুদ্ধির, শরীরের বেগ সহ্য করিতে করিতে মন–বুদ্ধি–শরীর ভেদ ভাবের তরঙ্গ হইতে মুক্তি হইয়া পরম শক্তি জাগিয়া পড়িবে—সংশয় নাই। এই সংসার মায়ামুগ্ধ হওয়ায় কিংকর্ত্তব্যহারা হইয়া ভ্রান্তি বিষয় অমূলক চিন্তায় নিমগ্ন হইয়া, হিতাহিত জ্ঞান বর্জ্জিত হইয়া কার্য্য-কলাপে নানান উপসর্গ সৃষ্টি করিয়া থাকে। ইহা হইতে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় এই ধৈর্য্য হইতে অভ্যাস করা। ইহা ব্যতীত অন্য কোন উপায় নাই।— শ্রীশ্রী রামঠাকুর
বেদবানী, ৩য় খণ্ড (১০৭)
🌿 ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা
মানুষের মন অনবরত অপ্রয়োজনীয় চিন্তা, ভয় ও দুশ্চিন্তার আবর্তে ঘুরতে থাকে। এই আবর্ত থেকে মুক্তির প্রথম শর্ত হল ধৈর্য্য। ধৈর্য্য ধরে নামস্মরণ ও অভ্যাসের মাধ্যমে মন ধীরে ধীরে স্থির হয়।
ভগবান বাহিরে কোথাও নন—তিনি প্রকাশিত হন মানুষের ধৈর্যের মধ্যেই। তাই ধৈর্য্যই প্রকৃত ধর্ম এবং ধৈর্য্যই ভগবান। দ্বন্দ্বের মাঝেও স্থির থাকা মানেই প্রকৃত আনন্দ।
অধৈর্যের মাধ্যমে যে সুখ পাওয়া যায়, তা ক্ষণস্থায়ী। ভাগ্য মানুষকে নানা অভিজ্ঞতার দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু সহিষ্ণুতার দ্বারা সেই অভিজ্ঞতাই মানুষকে পবিত্র করে।
মন, বুদ্ধি ও শরীরের বেগ সহ্য করতে করতে একসময় দ্বৈতভাব লুপ্ত হয় এবং অন্তরে এক পরম শক্তির জাগরণ ঘটে।

0 Comments