শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে

 শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে


২টায় ঠাকুরের নিকট যাইয়া দেখি ঠাকুর পা টিপিতেছেন। চৌকির উপর আমি বসিলে, ঠাকুর চরণ দুইখানি আমার দিকে প্রসারিত করিয়া দিলে আমি কোলের উপর রাখিয়া টিপিতে লাগিলাম। ঠাকুর বলিতে আরম্ভ করিলেন, "আমার জন্য দুঃখ কইরো না। আমি বৃদ্ধ হইছি, অতি বৃদ্ধ হইছি। এখন পা দুইটা নিয়া হাঁটতে পারি না। অথচ এমন দিন গেছে যখন এই পা দুইটা নিয়া তুষারাচ্ছন্ন হিমালয়ের পাদদেশ থাইকা আরোহণ শুরু কইরা অভ্রভেদী শিখর দেশ অতিক্রম কইরা ওপারে নাইমা গেছি। কোথাও বিন্দুমাত্র বিশ্রাম নিতে হয় নাই। এখন সেই পা দুইটা চলতে চায় না। পাষাণের মত যে দেহ ছিল সেই দেহটারে আজ মোটর গাড়ির ঝাঁকুনি থাইকা অব্যাহতির জন্য আমারে কোলে নিয়া আসছ। আমার জন্য ভাববা না। ধৈর্য ধারণ কইরা থাকবা। আর টিপতে হইব না। ব্যাথা চইলা গেছে।" আমি বলিলাম, "এখন আমি চলে যাব।"
শ্রীপদে প্রণাম করিলে মাথায় হাত দিয়া "জয় গোবিন্দ, জয় গোবিন্দ" উচ্চারণ করিলেন।আমি রওনা হইয়া আসিলাম।
'রামভাই স্মরণে' -ফনীন্দ্র কুমার মালাকার ।
(ঠাকুরের সহিত লেখকের কথোপকথন )

Post a Comment

0 Comments